বিশেষ প্রতিনিধি:
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। এবার এ পরীক্ষায় ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এবার তিন হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা এসএসসি, দাখিল, এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেবেন। ৯টি সাধারণ ধারার শিক্ষা বোর্ড এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বে আছে। এবারের পরীক্ষা চলাকালে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগেই ৬টি নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। প্রশ্নফাঁসের গুজব ও নকলমুক্ত পরিবেশে এ পরীক্ষা আয়োজনে গত মঙ্গলবার থেকে দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত এক মাস সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন জেলা পর্যায়ের ট্রেজারি ও উপজেলা বা থানা পর্যায়ে থানা হেফাজতে সংরক্ষণ করা হবে। থানা বা ট্রেজারি থেকে পুলিশ প্রহরায় প্রশ্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বা এ-সংক্রান্ত গুজব ঠেকাতে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে নজরদারি। এ কাজে তৎপর চক্রগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নজরদারি চালাবে। প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে মন্ত্রণালয়। এইসাথে প্রশ্নফাঁসের শঙ্কামুক্তভাবে পরীক্ষা আয়োজনে ট্রেজারি-থানা থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহনের সময় এ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীদের মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, প্রশ্নপত্র বহন কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রেবাস বা যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। তা ছাড়া প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। ট্যাগ অফিসার ট্রেজারি, থানা হেফাজত হতে কেন্দ্র সচিবসহ প্রশ্ন বের করে পুলিশ প্রহরায় সব সেটের প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী কেন্দ্রসচিব, ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট বিধি অনুযায়ী খুলবেন। মন্ত্রণালয় আরো বলছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী বা কক্ষ পরিদর্শনে দায়িত্বে থাকা কোনো শিক্ষক মুঠোফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। শুধু কেন্দ্রসচিব ছবি তোলা যায় না ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না এমন ফিচার ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অননুমোদিত ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল, মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতিবিহীন যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে, এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ দিকে তীব্র জ্যাম এড়িয়ে ঢাকা মহানগরীর ১২২টি কেন্দ্রে যাওয়া সহজ করতে পরীক্ষার্থীদের পাশে থাকবে পুলিশ। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়া সহজ করতে ১৮ দফা সুপারিশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর আগে গত সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়া সহজ করতে ট্রাফিকের কুইক রেসপন্স টিম কাজ করবে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করবে। কেন্দ্রের আশপাশের সড়কে হকার থাকতে দেয়া হবে না। আর পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের সড়কে অযাচিত হর্ন না বাজাতে পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বুধবার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞায় পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আদেশ বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে পরীক্ষা চলার সময় পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও জানানো হয়।
Sharing is caring!