৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

ইসরাইল-লেবাননের সঙ্ঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চান ব্লিংকেন

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৪, ০১:১৮ অপরাহ্ণ
ইসরাইল-লেবাননের সঙ্ঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চান ব্লিংকেন

এনবি ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন শুক্রবার বলেন যে ইসরাইল এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।

লন্ডনে জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সাথে বৈঠকের সময়ে ব্লিংকেন এই মন্তব্য করেন। এ সপ্তাহে আরো আগের দিকে শান্তির অন্বষোয় মধ্যপ্রাচ্য সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কূটনীতিক লন্ডনে আরব নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আগে সংবাদদাতাদের ব্লিংকেন বলেন, তিনি এবং সাফাদি গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ওই একই সংবাদ সম্মেলনে সাফাদি গাজার উত্তরাঞ্চলে জাতিগোষ্ঠীগত শুদ্ধি অভিযান চালানোর জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেন এবং বলেন এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

ব্লিংকেন বলেন, তিনি লন্ডনে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সাথেও বৈঠক করেছেন। তারা এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন যে লেবাননের লড়াইয়ের কূটনৈতিক নিস্পত্তি অত্যন্ত জরুরি যার মধ্যে রয়েছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

অন্যান্য বিষয় ছাড়াও ২০০৬ সালের চুক্তিতে লিতানি নদী ও ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল তৈরি করেছিল। ওই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলি বাহিনীকে লেবাননের বাইরে রাখা এবং হিজবুল্লাহর দীর্ঘমেয়াদি নিরস্ত্রীকরণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয়পক্ষই এই প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে।

এক বিবৃতিতে ব্লিংকেন বলেন, এই সঙ্ঘাতের যেকোনো কূটনৈতিক সমাধানে সীমান্তের উভয় দিকের বেসামরিক নাগরিকদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।

ইসরাইল এক মাস আগে লেবাননের বিরুদ্ধে এই বলে বড় রকমের আক্রমণ চালায় যে সীমান্তের অপর দিক থেকে রকেট আক্রমণে উত্তর থেকে হাজার হাজার বাস্তুচ্যূত ইসরাইলির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।

হিজবুল্লাহ বলে, তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আক্রমণ চালায়।

বৃহস্পতিবার দোহায় ব্লিংকেন ঘোষণা করেন, গাজা ভূখন্ডে সংঘাত বন্ধের জন্য অস্ত্র বিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে আবারো যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা বৈঠক করবে।

শুক্রবার, লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই অবধি লেবাননে ইসরাইল আক্রমণ চালিয়ে ৫৫টি হাসপাতালের ওপরে আঘাত হেনেছে।

আবিয়াদ বলেন, এই সব আক্রমণে ১৬৩ জন নিহত এবং ২৭২ জন আহত হন।

লেবানন বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ সমন্বয়ক জেনিন হেনিস-প্লাসচ্যার্ট বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটা নিশ্চিত করেছে যে ৫৩টি স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে ৯৯ জন নিহত এবং ৮২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন।

বোমা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গোটা লেবাননজুড়ে আটটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছে এবং আরো সাতটি আংশিক খালি করা হয়েছে। তারা আরো বলছে যে ২৭টি অ্যাম্বুলেন্সের ওপরও আঘাত হানা হয়। দূর্গত এলাকার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালের দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং লেবাননের সংবাদ মাধ্যম জানায়, লেবাননের দক্ষিণঞ্চলের হাসবায় শহরে ইসরাইলের বিমান হামলা কয়েকটি অতিথিশালায় আঘাত হানে যেখানে সাংবাদিকরা বাস করছিলেন। এই আক্রমণে ঘুমন্ত অবস্থায় কমপক্ষে তিনজন সাংবাদিক প্রাণ হারান এবং আরো অনেকে আহত হন।

ইরানপন্থী সংবাদ মাধ্যম আল মায়াদিন এবং হিজবুল্লাহর সম্প্রচার কেন্দ্র আল মানার তাদের জারি করা বিবৃতিগুলোতে এটা নিশ্চিত করেছে যে ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা তাদের কর্মী।

৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের সন্ত্রাসী আক্রমণে প্রায় ১২০০ লোককে হত্যা করে এবং ২৫০ জনকে বন্দী করে নিয়ে যায়। হামাস এখনো প্রায় ১০০ জনকে বন্দী করে রেখেছে, মনে করা হচ্ছে, এদের এক-তৃতীয়াংশই মারা গেছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে গাজায় ইসরাইলের পাল্টা আক্রমণে ৪২ হাজার ৮৪৭-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন তবে ইসরাইল বলছে যে নিহতদের এই সংখ্যার মধ্যে কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধাও রয়েছে।

Sharing is caring!