৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার সম্পর্ক থাকবে: সারজিস

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৫, ০১:৫৭ অপরাহ্ণ
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার সম্পর্ক থাকবে: সারজিস
এনবি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার সম্পর্ক থাকবে।

তিনি শুক্রবার রংপুর মহানগরীর ঐতিহাসিক কেরামতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর মুসল্লিদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, সেই প্রাচীনকাল, এমনকি মেসোপটেমিয়ান যুগ থেকে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের জলপথে ইউরোপ, আমেরিকাসহ প্রতিটা রাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন বন্দরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আদান-প্রদানের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে অনেক দেশ ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। এটি ঐতিহ্যগতভাবেই চলে আসছে। তবে এগুলো সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। কারো একক নিয়ন্ত্রণে নয়। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে, তবে সেটা হবে শ্রদ্ধা ও সমতার সম্পর্কের ভিত্তিতে। এ সম্পকর্কে কেউ যদি ডমিনেট করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা আর কারো চোখ রাঙানি দেখব না। বাংলাদেশের সাথে ভারত, চীন, আমেরিকা, রাশিয়ার সম্পর্ক থাকবে। এই পারস্পারিক সম্পর্কের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে বিশ্ব।

সারজিস আলম বলেন, আমরা মনে করি, বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রটি যেমন তারুণ্য নির্ভর থাকবে, তেমনি এই নেতৃত্বে যারা আমাদের অগ্রজ ও সিনিয়র রয়েছেন, তারাও অবশ্যই থাকবেন। যে জায়গায় যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, দক্ষতা রয়েছে ও সততা রয়েছে, সেই ভিত্তিতে তারাই সেখানে নেতৃত্বের জায়গায় আসবেন। আমরা মনে করি, সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে তরুণদের যে সাহস, উদ্যম ও দৃঢ়তা যেমন দরকার, তেমনি আমাদের অগ্রজ যারা রয়েছেন, তাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা আমাদের এগিয়ে চলার জন্য অনেক বেশি প্রয়োজন। তাই আমরা একসঙ্গে আমাদের এই জাতীয় নাগরিক পর্টিতে আমাদের অগ্রজ এবং আমাদের এই তরুণ- সবাই আমরা একসাথে কাজ করে যাব। আমরা বিশ্বাস করি আমরা এটা করতে পারলে আমরা সফলতার সাথে এগিয়ে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশে এক যুগ ধরে গণমুখী রাজনীতি ছিল না। সে সময়ে দেশে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন কেনা, দিনের ভোট রাতে করা, অনির্বাচিত হয়েও সংসদে যাওয়া, এমন রাজনীতি হয়েছে।

সারজিস আলম বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই। সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে চাই। আমাদের আজ থেকে দেশে সেই সাংগঠনিক সফর শুরু হয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে মাঠে-ঘাটে, অলিগলিতে মানুষের কাছে যেতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা তুলে ধরতে চাই। আমরা জনগণের কাছে জানতে চাই, তারা কী চান। জনগণের চাওয়া পাওয়া নিয়ে, তাদের ভোটের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাই আমাদের লক্ষ্য।

সারজিস আলম বলেন, বিগত ১৬ বছরে সকল বাজেট ছিলো অঞ্চলভিত্তিক। বাজেটের বেশিরভাগ গেছে দক্ষিণবঙ্গে। উত্তরবঙ্গ শুধু দিয়েই গেছে। ফসল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য উত্তরবঙ্গে উৎপাদন হয়। কিন্তু পাওয়ার সময় যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু উত্তরবঙ্গ পায়নি।

‘তাই আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরবঙ্গের জন্য যতুটুক বাজেট দরকার ততটুকু রাখবে। এ বিশ্বাস রাখতে চাই। কেননা বৈষম্য করে, অন্যায় করে যে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না, তার উদাহারণ হচ্ছে খুনি হাসিনা’।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে মাত্র এক মাসের দল এনসিপি। তাই সারাদেশে প্রার্থী মনোনয়নে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য তিন শ আসনে প্রার্থী দেওয়া। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। মানুষ নতুন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন, তরুণদের নেতৃত্ব যারা পছন্দ করেন। ফলে আমরা সৎ, যোগ্য এমন মানুষকেই মনোনয়ন দিতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়ে ঈদ পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ থেকে। আমরা সকল ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত রয়েছি।

সাংগঠনিক কার্যক্রম বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, প্রতিটি জেলা উপজেলায় আমাদের দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এক মাসের মধ্যেই শুরু হবে। সারাদেশে আমাদের অনেক সমর্থক রয়েছেন। শুভাকাঙ্ক্ষীও রয়েছেন। আমরা ’২৪ এর স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

এর আগে সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহি কেরামতিয়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!